২৪ ঘণ্টায় মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত ২৩ হামলা, ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর দাবি

 


মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অন্তত ২৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সারায়া আওলিয়া আল-দাম। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তাদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাকে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অন্তত পাঁচটি হামলা চালানো হয়েছে।

গোষ্ঠীটি নিজেদের ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এর অংশ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। একই সাথে তারা জানিয়েছে, ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ২৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সতর্ক বার্তা

এই ঘটনায় কূটনৈতিক উত্তেজনাও বেড়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি সত্যিই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

চিঠিতে তিনি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে জানতে চান, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে তাদের কী স্বার্থ অর্জিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন, বিস্তারবাদ বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি।

পেজেশকিয়ান আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি মোতায়েন করেছে। এসব ঘাঁটির মাধ্যমে সাম্প্রতিক হামলা পরিচালনা করে তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পেজেশকিয়ান ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে বৈধ আত্মরক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

বিশ্লেষক মন্তব্য

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ইরাক ও ইরানের এই ধরনের সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এই সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে।

Next Post Previous Post