আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব : মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী Mirza Fakhrul Islam Alamgir বলেছেন, দেশের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ ধার্মিক এবং তারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা পছন্দ করে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি দলের নেতারা মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে বেহেশতের প্রলোভন দেখায়, কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমরা কাজ করতে এসেছি, কাজ করে যাব। আমরা কাজ করে বেহেশতে যাব।”
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধর্মকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। সৎ থাকতে হবে, হালাল উপার্জন করতে হবে—তবেই বেহেশত পাওয়া সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ সচেতন এবং তারা এখন আর ধর্মের নামে বিভ্রান্ত হয় না। ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, এই যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমাদের সামনে খুব ভালো সময় নেই, বরং কঠিন সময় আসছে। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়বে, জিনিসপত্রের দামও বাড়বে। এসব পরিস্থিতি আমাদের ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।”
তেল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে পাম্পে ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মব সৃষ্টি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। আমরা কঠোরভাবে এসব দমন করব।”
কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে গম ও আলুর ক্ষতি হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, সরকার কৃষকদের সমস্যাগুলো বুঝতে পারছে এবং তাদের সহায়তায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের লাখ লাখ নারীকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক নারীকে এর আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার খাল খননের পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপির নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
