ইরানের হামলায় বিপর্যস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান: প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ পাইলটের

 


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্রতা পেয়েছে। ইরানের দফায় দফায় হামলার মুখে পড়ে মার্কিন একটি যুদ্ধবিমানের পাইলট প্রাণ বাঁচাতে সাগরে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হয়েছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর বরাতে জানা গেছে, একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তার দুই ক্রুকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীর আরও দুটি বিমান ইরানের হামলার মুখে পড়ে।

উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানটি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাইলট পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে উদ্ধারকারী দল তাকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি হেলিকপ্টারের একটিতেও ছোট অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়। এতে কয়েকজন ক্রু সদস্য আহত হন। তবে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হেলিকপ্টারটি নিরাপদে অবতরণ করতে পেরেছে।

অন্যদিকে, ভূপাতিত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটের খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

এ ঘটনায় কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, “এটা যুদ্ধের অংশ, তাই আলোচনার ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”

এছাড়া হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি প্রেসিডেন্টকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Next Post Previous Post