ইরান যুদ্ধ: ফুরিয়ে আসছে ট্রাম্পের আইনি সময়সীমা

 


ইরান যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর হাতে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে চলেছে, তবে তিনি তার সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবেন—এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত পর্যন্ত এই আইনি সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া বৈধ নয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত মার্চের শুরুতে ইরানে সামরিক হামলার বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করার পর ‘৬০ দিনের’ একটি সময়সীমা কার্যকর হয়। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস যুদ্ধের অনুমোদন না দিলে সরকারকে সামরিক তৎপরতা সীমিত বা গুটিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুমোদন না আসায় হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করছেন, সময়সীমা অতিক্রম করলে প্রেসিডেন্ট স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করবেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা Chuck Schumer রিপাবলিকান সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৬০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট যে যুদ্ধ ক্ষমতা আইন লঙ্ঘন করছেন, সে বিষয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।” একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটরা দাবি করছেন, প্রশাসন ইতোমধ্যেই একটি নড়বড়ে আইনি অবস্থানে রয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়। তাদের যুক্তি, গত মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কারণে এই ৬০ দিনের সময়সীমার গণনা স্থগিত হয়েছে। প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ৭ এপ্রিলের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি সংঘর্ষ হয়নি, ফলে তাদের মতে সক্রিয় শত্রুতা শেষ হয়েছে এবং আইনি সময় গণনা থেমে গেছে।

এই বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth কংগ্রেস সদস্যদের বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ‘৬০ দিনের সময়সীমা কার্যত স্থগিত থাকে’। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আইনের এমন ব্যাখ্যার কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি সংবিধানবিরোধী হতে পারে।

উল্লেখ্য, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেই আইনের প্রায় ৫০ বছর পর আবারও তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বড় ধরনের পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।

এদিকে সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করার একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার নাকচ হয়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটরা একাধিকবার যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি। যদিও অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য এখনো প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবুও সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় তাদের মধ্যেও অস্বস্তি বাড়ছে।

রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য সতর্ক করেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। উটাহ অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি John Curtis বলেন, “৬০ দিনের পর সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার আইনটি অত্যন্ত স্পষ্ট, তাই অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে আমি নই।” তার এই মন্তব্য দলীয় অবস্থানের ভেতরেও ভিন্নমত প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর Adam Schiff বলেন, “দুই মাসের যুদ্ধ, ১৩ জন সেনার প্রাণহানি এবং বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর এখন আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, আমরা ইতোমধ্যেই বড় মূল্য পরিশোধ করেছি।” তার এই বক্তব্য যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবিধানিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক বিভাজন, আইনি জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে এই পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Next Post Previous Post