হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৬৪ বিলিয়ন ডলার আয় ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন Islamic Republic of Iran Broadcasting-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল থেকে বছরে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে তেহরান।
জ্বালানি বাণিজ্যে বড় সুযোগ
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। এই পথকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়িয়ে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনা করছে ইরান।
সরকারি সূত্রের বরাতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই জলপথকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে দেশটি।
নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক অবস্থান
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবুও দেশটি বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এছাড়া ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকেও সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও সীমিত চলাচল
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম CNN জানায়, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে Associated Press-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরান ও ওমান উভয়ের টোল আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
