বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের চিত্র, দিশাহারা ইসরায়েল
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের আকাশে নতুন ধরনের এক সামরিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah সম্প্রতি ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন ব্যবহার শুরু করেছে, যা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নতুন প্রযুক্তির ড্রোনগুলো সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে এগুলোকে অকার্যকর করাও প্রায় অসম্ভব।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ড্রোন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরক বহনকারী কোয়াডকপ্টার ড্রোন দক্ষিণ লেবাননের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় নিচু দিয়ে উড়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করছে। ড্রোনটির অপারেটর প্রথম-ব্যক্তি দৃষ্টিকোণ থেকে (FPV) সরাসরি লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ করতে পারছিলেন, যা আক্রমণকে আরও নির্ভুল করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনগুলোর মূল শক্তি তাদের প্রযুক্তিগত গঠনে। সাধারণ ড্রোন যেখানে বেতার সংকেতের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, সেখানে ফাইবার-অপটিক ড্রোন সরাসরি একটি পাতলা কেবল দিয়ে অপারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। ফলে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল নির্গত হয় না, যা শনাক্ত বা জ্যাম করা সম্ভব। এ কারণেই এগুলোকে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এক হামলায় এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে তাদের এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এমনকি আহতদের সরিয়ে নিতে আসা একটি উদ্ধার হেলিকপ্টারও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলভিত্তিক Institute for National Security Studies-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেছেন, এসব ড্রোনে কোনো ইলেকট্রনিক সিগনেচার না থাকায় এগুলোর উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এটি এক নতুন ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল হলেও অত্যন্ত কার্যকর। বড় ধ্বংসযজ্ঞ না ঘটালেও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারায় এটি অসম যুদ্ধের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যখন একাধিক ড্রোন একসঙ্গে হামলা চালায়, তখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা মোকাবিলায় হিমশিম খায়।
বর্তমানে ইসরায়েল তাদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই নতুন ধরনের ড্রোন প্রতিরোধে বিকল্প কৌশল খুঁজছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায়নি। জাল বা শারীরিক বাধা ব্যবহার ছাড়া এই ধরনের ড্রোন থামানোর উপায় সীমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ফাইবার-অপটিক ড্রোনের এই ব্যবহার ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে। প্রযুক্তিগতভাবে সহজ হলেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত কার্যকর এই অস্ত্র আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তির বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।