‘এটি জনগণের নয়, চুক্তিনির্ভর নির্বাচন ছিল’: মুফতী ফয়জুল করীম
বিগত জাতীয় নির্বাচনকে ‘চুক্তিনির্ভর’ ও ‘ভাগাভাগির’ নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন Islami Andolon Bangladesh-এর সিনিয়র নায়েবে আমির Mufti Syed Faizul Karim। শুক্রবার (১ মে) রাজধানীর Baitul Mukarram National Mosque-এর উত্তর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটের প্রতিফলন নয়; বরং এটি ছিল পূর্বনির্ধারিত সমঝোতা ও আসন বণ্টনের ফল, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে আগেই একটি চুক্তি হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
সমাবেশে তিনি বর্তমান সংসদীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, বিস্ময়ের বিষয় হলো বিরোধী দলের নেতারাই সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন তারা প্রকৃত বিরোধী দল নন। তার মতে, এটি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের দলকে নির্বাচনে পরাজিত করা হয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি অবিলম্বে শ্রমিক কার্ড চালুর দাবি জানান। তার মতে, এটি চালু হলে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে। সমাবেশে অন্যান্য বক্তারাও সরকারের অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে সরকার স্বল্পমেয়াদি জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়লাভের জন্য Bangladesh Nationalist Party বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একদিকে কোরআনভিত্তিক শাসনের কথা বলা এবং অন্যদিকে ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া দ্বিচারিতার শামিল। তিনি বিরোধী দলকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনে সংসদে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে নয়—এসব বিষয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি সকল রাজনৈতিক নেতার পারিবারিক ইতিহাস ও অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, তার দল ক্ষমতার জন্য নয়, আদর্শের জন্য রাজনীতি করে। প্রয়োজনে ক্ষমতা ত্যাগ করা সম্ভব হলেও আদর্শ থেকে সরে আসা সম্ভব নয়। দেশে একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেষে তিনি দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
