ইউরেনিয়াম স্থানান্তর নিয়ে আপসহীন ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে স্থানান্তরের প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেছেন, এই ইস্যু কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয় এবং এটি কখনো আলোচনার অংশও ছিল না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) তাসনিম নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বাকেই বলেন, ইরানের পারমাণবিক অর্জন জাতীয় গর্বের প্রতীক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি আমাদের জন্য কখনোই আলোচনার বিকল্প হিসেবে ওঠেনি।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, তেমনি দেশের অর্জিত ইউরেনিয়ামও সমান মর্যাদাপূর্ণ। জনগণের ত্যাগ, শ্রম ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত এই সক্ষমতা কোনোভাবেই সমঝোতার বিষয় হতে পারে না।
ইরানের মতে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতিই নয়, বরং জাতীয় দৃঢ়তা ও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের প্রতীক। বাকেই দাবি করেন, “এটি যদি গুরুত্বপূর্ণ না হতো, তবে শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে এত কঠোর পদক্ষেপ নিত না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে টানাপোড়েন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি, অবস্থান পরিবর্তন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরান আরও অভিযোগ করেছে, হরমুজ প্রণালি-তে মার্কিন নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে।
এ অবস্থায় আলোচনার মাধ্যমে কোনো ইতিবাচক ফল আসার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে তেহরান।
ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তবে ইরান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতদিন অবরোধ বহাল থাকবে, ততদিন তারা আলোচনায় বসবে না।
উপসংহার
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ইস্যুতে অনড় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
