ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব আবারও নাকচ মার্কিন সিনেটে
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সিনেট। এটি ছিল একই ধরনের চতুর্থ প্রচেষ্টা, যা ব্যর্থ হলেও আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন ভবিষ্যতেও এ প্রস্তাব উত্থাপন অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে বাতিল হয়ে যায়। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পাউল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান বিপক্ষে ভোট দেন।
এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে সাম্প্রতিক দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে। যদিও ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত আলোচনায় স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি, তবে উভয় পক্ষই নতুন করে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছে।
🔥 ট্রাম্পের হুমকিতে বিতর্ক তীব্র
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, “আজ রাতে একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” তার এমন বক্তব্য কংগ্রেসে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে।
প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, ট্রাম্প সংবিধানবহির্ভূতভাবে ইসরায়েল-এর সঙ্গে মিলে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছেন। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও জরুরি আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট এককভাবে পদক্ষেপ নিতে পারেন।
⚖️ সিনেটরদের বিভক্ত অবস্থান
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি এই সংঘাতকে “অব্যবস্থাপনা ও ভুল পরিকল্পনার ফল” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, বহু মার্কিন প্রাণহানি ঘটেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিচ বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ ধরনের প্রস্তাব অপ্রয়োজনীয়।
📊 সামনে কী হতে পারে
এদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ-এ একই ধরনের একটি প্রস্তাব নিয়ে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উভয় কক্ষে পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো অতিক্রম করা কঠিন হবে।
আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ ৬০ দিনে পৌঁছালে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে, অন্যথায় প্রেসিডেন্টকে সেনা প্রত্যাহার করতে হতে পারে।
⚠️ হরমুজে উত্তেজনা বাড়ছে
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইরানের বন্দরগামী কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি।
মার্কিন নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগে জড়িত জাহাজগুলোকে তল্লাশি ও জব্দ করা হতে পারে।
অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এই নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে এবং নতুন করে বড় সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
