আমেরিকার বড় ক্ষতি: ইরান সীমান্তে বিধ্বস্ত অত্যাধুনিক ড্রোন
ইরান ও United States-এর মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন হারিয়েছে পেন্টাগন, যা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সক্ষমতায় বড় আঘাত।
মার্কিন নেভাল সেফটি কমান্ড এই ঘটনাকে ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংবাদমাধ্যম The Express Tribune এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া ড্রোনটি ছিল MQ-4C Triton মডেলের, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। এটি ইতালির Naval Air Station Sigonella থেকে উড্ডয়ন করেছিল।
পারস্য উপসাগর ও Strait of Hormuz অতিক্রম করার সময় হঠাৎ করেই ড্রোনটি অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। সিগন্যাল হারানোর আগে এটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নামছিল বলে জানা গেছে।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে আর্থিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য। যদিও প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ডলারের ক্ষতির কথা বলা হলেও ড্রোনটির প্রকৃত মূল্য প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার—যা দুটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দামের চেয়েও বেশি।
নিরাপত্তার স্বার্থে ড্রোনটি কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার আগে এটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমা দিয়ে Iran-এর দিকে যাচ্ছিল। তবে এটি ইরানের ভেতরে পড়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ড্রোনটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, নাকি সাইবার হামলার শিকার হয়েছে—তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, Israel এবং United States-এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ড্রোন হারানোর ঘটনা। এর আগে ১ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪টি MQ-9 Reaper ড্রোন হারানোর খবর পাওয়া গেছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৭২০ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোন হারানো যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে।
