বগুড়ায় অভিযানে সাড়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ,
বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও শেরপুর উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ও রাতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জব্দ করা ডিজেল সরকারি নির্ধারিত দামে জনগণের মাঝে বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার টিপুর মোড় এলাকায় লোপা এন্টারপ্রাইজ-এর মালিক লোকমান হাকিম দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই খোলা বাজারে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট শুরু হলে তিনি দোকানে বিক্রি বন্ধ করে দেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত রাত ৯টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক চার হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করে। তবে অভিযানের সময় মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস। তিনি জানান, জব্দ করা ডিজেল জনগণের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, শেরপুর উপজেলায় বিমল ট্রেডার্স-এ অভিযান চালিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
শেরপুর উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল মজুতের অনুমতি থাকলেও মালিক স্বপন চন্দ্র মন্ডল প্রায় নয় হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করেছিলেন। এর মধ্যে কিছু বিক্রি করে বাকি ডিজেল গোপনে মজুত রাখা হয়।
এ ঘটনায় পেট্রলিয়াম আইনে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে জব্দ করা ডিজেল স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কৃষকদের মাঝে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়।
প্রশাসনের দাবি, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
-69e0b38e58d96.jpg)