স্বামীকে খুনের অভিযোগে টিকটকার আঁখি গ্রেপ্তার

 


কক্সবাজারের রামুতে চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং নিহতের স্ত্রী, ‘টিকটকার’ তাহেরা বেগম আঁখিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উখিয়া উপজেলার কোটবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে র‍্যাব-১৫–এর একটি দল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক জানান, গত ৪ মার্চ রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদের গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস এবং পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি আত্মগোপনে চলে যান, যা তার বিরুদ্ধে সন্দেহকে আরও জোরালো করে তোলে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে রামু থানা–এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর থেকেই র‍্যাব-১৫ ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ায়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তারা আঁখির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উখিয়ার কোটবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। যদিও তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তাহেরা বেগম আঁখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম TikTok–এ বেশ পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের দারিয়ার দিঘি এলাকার বাসিন্দা মো. মুসার মেয়ে। সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও তার ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যা চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এবং এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, এই হত্যাকাণ্ড এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি সবার নজরে রয়েছে।

Next Post Previous Post