ভোট হালাল, গণভোট হারাম কেন?”—জামায়াত আমিরের

 


বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা Dr. Shafiqur Rahman সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ভোট ও গণভোট প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর ৬০ ফিট সংলগ্ন মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ভোট আর গণভোট; একটা হালাল হলে আরেকটা হারাম হবে কেন?” তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।


ঈদের জামাত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, গণভোট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জনগণের মতামত জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। যদি সংসদের মাধ্যমে এই বিষয়ে কোনো সমাধান না আসে, তাহলে জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে তা আদায় করা হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, গণভোটের প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন এবং বিষয়টিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চান।


এদিকে ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের সমালোচনাও করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে জাতির কাছে লজ্জিত হতে হয়েছে। তার মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি অমানবিক এবং এটি একটি অপরাধের শামিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা একটি দায়িত্বশীল সরকারের জন্য কাম্য নয়।


দেশবাসী ও প্রবাসীদের উদ্দেশে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গাজা ও ইরানে বর্বরতা চলছে এবং সেখানে নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহর সহায়তায় মজলুমরা একদিন বিজয়ী হবে। তার এই মন্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতি উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা যায়।


এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও জানান তিনি। রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে অবস্থিত তার সরকারি বাসভবনে বেলা ১১টা থেকে ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেছেন তিনি। এই আয়োজনকে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করা হয়।


একই দিনে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে বলে জানা গেছে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে দলীয় ও সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা করা হয়, যা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।


সব মিলিয়ে, ঈদের দিনে দেওয়া জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য শুধু ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলোকেও সামনে এনেছে। ভোট ও গণভোট নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্ন, ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের সমালোচনা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে তার বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই ইস্যুগুলো কীভাবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রভাব ফেলবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Next Post Previous Post