ইরানের মিসাইল ঝড়ে ছিন্নভিন্ন ইসরাইলের দুই শহর

 


ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আরাদ ও ডিমোনা শহরসহ আশপাশের এলাকা থেকে ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ইসরাইলের কল্যাণ ও সমাজসেবা মন্ত্রণালয় দেশটির গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানায়, বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং তাদের অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।


সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষই দক্ষিণ ইসরাইলের আরাদ ও ডিমোনা শহরের বাসিন্দা। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে এই দুই শহরে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। হামলার সময় ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু প্রজেক্টাইল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরাসরি আঘাত হানে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র। এতে করে ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।


ইসরাইলের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১৮০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের অনেকেই বিস্ফোরণের ধাক্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং আতঙ্কজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।


অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এই হামলা তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। তাদের দাবি, এর আগে ইরানের Natanz Nuclear Facility-এ হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তেহরান আরও জানিয়েছে, ডিমোনা শহরে অবস্থিত ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। যদিও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি, তবে হামলার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চলতে থাকলে তা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নয়, পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


সব মিলিয়ে, আরাদ ও ডিমোনা শহর থেকে হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা বর্তমান সংঘাতের তীব্রতা এবং মানবিক সংকটের দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

Next Post Previous Post