বাংলাদেশর যেসব জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা

 


দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যেখানে বলা হয়েছে ঢাকাসহ ১২টি জেলার ওপর দিয়ে রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে, যা জনজীবনে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি এবং এতে গাছপালা উপড়ে যাওয়া, ঘরবাড়ির ক্ষতি কিংবা নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এর অর্থ হলো, নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলার জন্য নির্দেশনা মানতে হবে। বিশেষ করে ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

এদিকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল এবং সিলেট অঞ্চলের জন্যও ঝড়ো আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে এসব এলাকায় বাতাসের গতি কিছুটা কম হতে পারে, যা ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবুও এসব অঞ্চলেও বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই তিনটি অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, হঠাৎ করে ঝড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে, তাই সবাইকে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা বেশি থাকে এবং কালবৈশাখী ধরণের ঝড় সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা থাকে। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র বাতাস, বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে করে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গাছপালা উপড়ে পড়া কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

সাধারণ মানুষকে এ সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করা, বড় গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযান চালকদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করে চলাচল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের এই সতর্কবার্তা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Next Post Previous Post