হরমুজ ইস্যুতে ১০ দিনেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যু হয়ে উঠেছে এই কৌশলগত জলপথ।
ওয়াশিংটন থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই প্রণালি নিয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান দিয়েছেন।
প্রথমে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ পথে যাওয়া তেল ওয়াশিংটনের প্রয়োজন নেই এবং অন্যান্য দেশগুলোই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
তবে কিছুদিন পরই নিজের অবস্থান বদলে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি। এমনকি তিনি সতর্ক করে দেন, প্রণালি খুলে না দিলে কোনো ধরনের আলোচনা সম্ভব নয়।
কৌশলগত গুরুত্ব ও দ্বন্দ্ব
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই ধরনের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থানকে অস্পষ্ট করে তুলেছে। এতে কূটনৈতিক আলোচনায় জটিলতা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিকে তাদের অন্যতম বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই প্রণালিকে একটি শক্তিশালী ‘কৌশলগত কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছে। সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় না করে তারা এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দেবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যখন সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন পরবর্তী দফা আলোচনায় এই ইস্যুর সমাধান হবে কিনা—তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষণ
হরমুজ প্রণালি ইস্যু এখন শুধু একটি আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান এবং ইরানের দৃঢ় কৌশল—এই দুইয়ের সংঘাতে ভবিষ্যৎ আলোচনা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
