ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ২৪ ঘণ্টায় নিহত অন্তত ১৫

 


ইউক্রেনে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, যার ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা

শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা এমন এক সময় হয়েছে যখন ভলোদিমির জেলেনস্কি তুরস্ক সফরে ছিলেন এবং ইস্তাম্বুলে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান-এর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছিলেন।

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, খারকিভ শহরসহ আশপাশের অন্তত ১১টি এলাকা রুশ হামলার শিকার হয়েছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। একই অঞ্চলের সুমি এলাকায় ড্রোন হামলায় একটি ভবনে আঘাত হানলে আরও ১১ জন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নিকোপোল শহরে একটি বাজার লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। অপরদিকে পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়জন নিহত এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার ছোড়া মোট ২৮৬টি ড্রোনের মধ্যে ২৬০টি ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে এবং ধ্বংসাবশেষ ছয়টি স্থানে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে।

এদিকে পাল্টা হামলায় রাশিয়া-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, টাগানরগ শহরে হামলায় একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং অন্তত একজন নিহত ও চারজন আহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে মতবিরোধের কারণে কোনো সমাধান আসেনি।

এই প্রেক্ষাপটে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলেনস্কি ও এরদোয়ান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য সমাধান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। তুরস্ক জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী এবং কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও বাস্তবতায় সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।

Next Post Previous Post