ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বিপাকে ইসরায়েল: নেতানিয়াহু সরকারের জন্য বড় ধাক্কা!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল সরকারের জন্য এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের জন্য এটি রাজনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কিছুদিন আগেও ইসরায়েল লেবাননের ভেতরে সামরিক অভিযান বিস্তৃত করে লিটানি নদী পর্যন্ত অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছিল। তবে হঠাৎ করেই ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সেই পরিকল্পনায় বড় ধরনের ভাটা ফেলে দেয়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে বিমান হামলা বন্ধ করার বার্তাও দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
যদিও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে দখলকৃত এলাকা থেকে সরে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো নির্দেশ দেয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করায় ইসরায়েল সরকার তাদের অবস্থান ব্যাখ্যার কিছুটা সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে, ইসরায়েল সম্প্রতি লেবানন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর কথা বলেছে। তবে হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
লেবাননের বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ মূলত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ডানপন্থী সমর্থকদের সন্তুষ্ট রাখতে সরকার কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করছে, যাতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা যায়।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ইসরায়েলের চলমান কৌশলকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং সরকারকে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনা সাজাতে বাধ্য করছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের সংঘাত বা সমঝোতার পথকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
