‘অবরোধে ভয় পায় না ইরান’: জ্বালানি সংকটের শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন ইরানের তেলমন্ত্রী

 


ইরান জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ সত্ত্বেও তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সংকট তৈরি হয়নি এবং দেশটি স্বাভাবিকভাবেই জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে বলে দাবি করেছেন তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ, যিনি বলেছেন যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যেভাবে অন্যান্য দেশ নিজেদের অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সামলে নেয়, ইরানও একইভাবে দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ভবিষ্যতেও কোনো ঘাটতি দেখা দেবে না

; তিনি আরও অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত এই নৌ অবরোধ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না, কারণ ইরান অভ্যন্তরীণভাবে শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিকল্প ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলেছে, ফলে বাহ্যিক চাপ তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না; এই পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেছেন যে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে এবং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ না করে তবে কোনোভাবেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না,

 বরং চাপ আরও বাড়ানো হবে; Al Jazeera এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ট্রাম্প মনে করেন এই নৌ অবরোধ সামরিক হামলার চেয়েও বেশি কার্যকর একটি কৌশল, কারণ এর মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, তিনি দাবি করেন যে ইরান এখন এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে তাদের তেল সংরক্ষণাগার ও পাইপলাইন ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়ছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে; একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুট নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে, কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ এবং এখানে কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে তা বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে;

 ইরান বলছে যে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, তবে তার জন্য প্রথম শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে তারা একটি সীমিত প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে হরমুজ প্রণালিতে তাদের অবস্থান শিথিল করার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি; ট্রাম্প আবারও জানিয়েছেন যে তিনি দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর তাড়া অনুভব করছেন না 

এবং বর্তমান চাপের কৌশলই অব্যাহত রাখতে চান, কারণ তার মতে এই চাপ ইরানকে আলোচনায় আনতে বাধ্য করবে; ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনা এখন একটি দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং বিশেষজ্ঞদের মতে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না আসে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Next Post Previous Post