ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির বহর দেখে চরম উদ্বিগ্ন নেতানিয়াহু
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই হামলায় অন্তত ৮৮ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের Arad শহরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়, ফলে সরাসরি আঘাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার পরপরই জরুরি সেবা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে দক্ষিণ ইসরায়েলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ শহর Dimona-তেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যদিও পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu এই ঘটনাকে ‘খুব কঠিন এক সন্ধ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, হামলার পর তিনি আরাদ শহরের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, জরুরি ও উদ্ধারকারী বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, “সব ফ্রন্টে শত্রুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।” তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসরায়েল এই হামলার জবাবে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
