রাজশাহীতে বিএনপির দুই গ্রুপের তুমুল সংঘর্ষ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেলপুকুর থানার বাঁশপুকুরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলপুকুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল ওয়াহিদ এবং বেলপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মমিনের মধ্যে বাঁশপুকুরিয়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে ঈদগাহ মাঠের ব্যবস্থাপনা ও কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁশপুকুরিয়া বাজার এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, মমিনের ভাতিজা খোরশেদ ও জয় বাজারে এলে আব্দুল ওয়াহিদ মেম্বার, তার বড় ভাই আবু সাঈদ, ছেলে জয় এবং সোহানসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এতে দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
সংঘর্ষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরে মমিন সমর্থকদের একটি দল বাঁশপুকুরিয়া বাজারে এসে আব্দুল ওয়াহিদ মেম্বারকে খুঁজতে থাকে। তবে তাকে না পেয়ে তারা তার ভাতিজা আনিসুর রহমানের কীটনাশকের দোকানে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় দোকানের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া তারা ওয়াহিদ মেম্বারের দলীয় অফিসে থাকা একটি ক্যারাম বোর্ড রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরজুন বলেন, ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুইজন আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
