ব্যবসায়ীকে মারধর করে টাকা ছিনতাই: জেলে বিএনপি নেতা
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মারধর করে এক ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে হারুনুর রশিদ (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হারুনুর রশিদ ওই গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে এবং মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মাত্রাই-বিয়ালা সড়কে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনের বাবা নুর আলম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদসহ মোট ছয়জনকে আসামি করে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ীর গতিরোধ করে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন কালাই উপজেলা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের আড়তদার হিসেবে ব্যবসা করেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি ব্যবসার টাকা নিয়ে তার সহকারী আলীমকে সঙ্গে করে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মাত্রাই ইউনিয়নের বিয়ালা সড়কে পৌঁছালে হারুনুর রশিদসহ অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তাদের বেধড়ক মারধর করা হয় এবং নাজিমুদ্দিনের কাছে থাকা প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মারধরের একপর্যায়ে আহত ব্যবসায়ী ও তার সহকারী চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের জয়পুরহাট ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে শুক্রবার (৬ মার্চ) তাকে জয়পুরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ঘটনাটি জানার পর কালাই উপজেলা বিএনপির কমিটিকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সংগঠনবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কেউ ছাড় পাবে না।
অন্যদিকে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনের বাবা ইয়াকুব আলী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই অভিযানে নেমে মামলার প্রধান আসামি হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে শুক্রবার জয়পুরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
