হাদি হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি ফয়সাল মাসুদ গ্রেপ্তার
রাজধানীর পল্টন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই তারা আত্মগোপনে ছিলেন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট পরিহিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওসমান হাদির ওপর হামলা চালায়। তারা খুব কাছ থেকে গুলি করলে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একজন ছিলেন ফয়সাল করিম মাসুদ। তার বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর অন্তর্বর্তী সরকার ফয়সাল করিম মাসুদকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। পাশাপাশি তদন্তের অংশ হিসেবে তার কোম্পানি অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অর্থায়ন ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এক সিআইসি কর্মকর্তা জানান, তদন্ত চলাকালে সম্ভাব্য অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করার আশঙ্কা থাকায় ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, হাদিকে গুলি করার ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার কাজও চলছে। একই সঙ্গে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র ও সন্দেহজনক লেনদেন খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই হামলার পেছনে পরিকল্পিত কোনো নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। এদিকে কলকাতা থেকে দুই আসামি গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর মামলার তদন্তে নতুন গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
